1. admin@khoborakhobor.com : খবরাখবর :
সমিতির নামে ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - খবরাখবর
সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ০২:১৭ অপরাহ্ন

সমিতির নামে ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • Update Time : বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার
আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার

ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথিত সমিতি খুলে কয়েকশ গ্রাহকের সঞ্চয়ের ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুইজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার নামে দুজন ব্যবসায়ী ঝালকাঠি শহরের ।

কুমারপট্টি আদর্শ ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানের এ দুজন সদস্যদের না জানিয়ে রাতারাতি সমিতির সব কাগজপত্র সরিয়ে অফিসের মালামালও ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দুই বছর ধরে ভুক্তভোগীরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছেন। বর্তমানে তারা এ লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা হালাল করতে রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী দুয়েক নেতার ‘শেল্টারে’ প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও অসহায় গ্রাহকরা ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৩ জন তাদের পাওনা টাকা ফিরে পেতে বরিশাল র‍্যাবের অধিনায়ক, দুর্নীতি দমন কমিশন, ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ও ওসি বরাবর আইনি সহায়তার জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়েশা কসমেটিকসের মালিক আসাদুজ্জামান জামাল ও রাজিয়া কসমেটিকসের মালিক সুমন তালুকদার স্থানীয় শতাধিক ব্যবসায়ীকে নিয়ে ‘কুমারপট্টি আদর্শ ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সঞ্চয় ও ঋণদান কর্মসূচির চালু করেন। উপজেলা সমবায় সমিতির অধীনে নিবন্ধন নিয়ে কুমারপট্টি ‘তুতন প্লাজায়’ সমিতির কার্যালয় নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় নেওয়া শুরু করে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সুকৌশলে সমিতির আর্থিক লেনদেন ও ঋণদানের ক্ষমতা থেকে যায় জামাল ও সুমনের হাতে। এভাবে সমিতির টাকা দিয়ে তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুললেও গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করেন। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সদস্যদের টাকা আদায় করে নিতে বলে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী খালিদ হোসেন বলেন, ‘সমিতিতে সঞ্চয় করে নামমাত্র সুদে ঋণ নিতে পারবে, বিপদে-আপদে ঋণ পাবে সদস্যরা- তাদের প্রতিশ্রুতি এমনই ছিল। এক লাখ টাকা জমা করেছি। এখন টাকা পাবো কি-না জানি না।’

অভিযোগকারীদের মধ্যে টুটুল বনিক ৬০ হাজার, জাফর ইকবাল ২২, লতিফ মুন্সি ৩৯, রাজিবুল ইসলাম বারেক ৫২, হারুন সরদার ৫০, বাহাদুর সরদার ৫০, মো. শাহ আলম মিয়া ৩৭, মিজানুর রহমান এক লাখ ১৭ হাজার, গৌতম বনিক ৩৮, রতন লাল বনিক ৩৮, খালিদ এক লাখ, আল আমিন ৪৫ ও স্বপন দাস ১৩ হাজার ৪০০ টাকাসহ ছয় লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা রয়েছেন। এ ছাড়াও অনেক গ্রাহকের ৫-১০ হাজার টাকাসহ গ্রাহকদের প্রায় ২৮ লাখ টাকা সঞ্চয় থাকলেও অভিযুক্তদের ভয়ে কোথাও অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার গ্রাহকদের বেশ কিছু টাকা দিতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, ‘বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ফিরিয়ে না দেওয়ায় কিছু গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে পারিনি। সব হিসাব সমিতির রেজিস্টার খাতায় আছে। আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না।’

বরিশাল র‍্যাবের অধিনায়ক মেজর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন আমাদের দফতরে এসে পৌঁছেছে। অপরাধী যেই হোক দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঝালকাঠি থানার সেকেন্ড অফিসার গৌতম চন্দ্র অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘বাদী ও বিবাদীর জবানবন্দি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

© khoborakhobor.com All rights reserved
Designed by khoborakhobor@team